বিজয় কর রতন, মিটামইন (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন নিযে়
গঠিত এই আসন থেকে সাত বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল
হামিদ তিনি দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হলে এ আসনটি শূন্য হয়। রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে
প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত
হন। পরে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি সংসদ নির্বাচনেই রেজওয়ান আহাম্মদ
তৌফিক এমপি নির্বাচিত হন। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির দলীয়
মনোনয়ন পেযে়ছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর
রহমান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ফজলুর রহমান ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে তার দীর্ঘ
রাজনৈতিক জীবনে নানা নাটকীয়তায় বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম
দিযে়ছেন। সম্প্রতি তার জামায়াতে ইসলামী এবং রাজাকার বিষযে় বিভিন্ন মন্তব্যের
কারণে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিযে়ছে। এ আসনে বিএনপির
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে ্#৩৯;বিতর্কিত ব্যক্ত্#ি৩৯; হিসেবে উল্লেখ করে তার
প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিযে়ছেন। এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী
হযে়ছেন অ্যাডভোকেট রোকন রেজা। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৮ হাজার ৩ শত ৫২ । এ
আসন থেকে ত্রযে়াদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিসঢ়;দ্বতা
করছেন। এদের মধ্যে বিএনপি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট
ফজলুর রহমান। বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী থেকে এডভোকেট রোকন রেজা, বাংলাদেশ খেলাফত
মজলিস থেকে রিকসা প্রতীক নিযে় খাইরুল ইসলাম ঠাকুর, ইনসানিয়াত বিপ্লব দল থেকে
আপেল প্রতিক নিযে় নুরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাত পাখা নিযে়
এডভোকেট বিল্লাল হোসেন মজুমদার। এনপিপি থেকে আম প্রতিক নিযে় জয়নাল আবেদীন,
সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাজী রেহা কবির সিগমা ফুটবল প্রতীক নিযে় ও মোহাম্মদ শাহীন
রেজা চৌধুরী ঘোড়া প্রতীক নিযে় নির্বাচনে সক্রিয় রযে়ছেন। বিএনপি – বীর
মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিযে় নির্বাচনে
লড়ছেন। এ আসনটি যদিও আওয়ামী লীগের দূর্গ এরপরে ও ত্রযে়াদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে এবার ফলাফল পাল্টে যাবে বিগত ৩ টি বিতর্কীত নির্বাচনে বিএনপি সহ
সাধারণ জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রযে়াগ করতে পারেনি। সাধারণ ভোটারদের অভিমত
দীর্ঘদিন পর তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেযে়ছে । তারা তাদের আশা আকাঙ্ধসঢ়;ক্ষা পূরণ করবে ।
সাধারণ ভোটাররা অভিযোগ করে বলেন, আজকে যারা আওয়ামী লীগের পদপদবি নিযে় বিগত
আমলে স্বৈরাচার কে সহযোগিতা করেছে এবং স্বৈরাচারের দোশর হযে় বিএনপির উপর
অত্যাচার নির্যাতন চালিযে়ছে তারাই এখন ফজলুর রহমানের ডানে বামে বসে তাকে পরামর্শ
দিচ্ছে। এই বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। কারণ ওইসব নেতাদের
চাপে পডে় অনেকেই বিতর্কিত নির্বাচনে কেন্দ্রে গিযে় ভোট দিতে বাধ্য করেছে। আজ
তারা মিছিল মিটিংযে় প্রথম সারির কর্মী হযে় গেছেন। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির ভোট
কিছুটা কমবে বলে তাদের অভিমত। সাধারণ ভোটাররা বলেন, এমন ভোটারবিহীন নির্বাচন
আমরা চাই না। আমরা অতীতে ফজলুর রহমান কে দলমত নির্বিশেষে ভোট দিযে় আসছি । কিন্তু
এবার চেযে়ছিলাম নিরাপদে বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিযে় সংসদে পাঠাবো । কিন্তু এক
শ্রেণীর আওয়ামী প্রীতি নেতাদের কারণে ভোটের একটি অংশ অন্যদিকে চলে যাওয়ার
সম্ভাবনা বেশি। ওই সকল আওয়ামী লীগের নেতারা রাতে এবং দিনে জামাত সহ সতন্ত্র
প্রার্থীদের নিযে় একেক জনকে একেক রকম ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। হাওরের
মানুষ সহজ-সরল তাদের পুঁজি কৃষিকাজ করা ও বর্ষাকালে মাছ ধরা ছাড়া এর বাইরে কিছুই
বুঝেন না। এডভোকেট ফজলুর রহমানকে তারা অতীতে সবসময় পেযে়ছে। সুখে দুখে আমরা
হাওরবাসী ঐক্যবদ্ধ ভাবে ধানের শীষে ভোট দিবো তারা বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট ফজলুর
রহমান কে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি এসকল স্বৈরাচারের দোসরদের কথা কানে নিবেন না। তারা
ভিতরে ভিতরে আপনাকে ডুবানোর চেষ্টায় লিপ্ত। এসকল প্রচারক নেতাদের থেকে দূরে থাকার
আহ্ধসঢ়;বান জানান, সাধারণ ভোটাররা বলেন ,আর মাত্র ১২ দিন রযে়ছে ভোটের আপনি এদের
পরামর্শ নিযে় এগোবেন না । নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বিএনপির উপজেলা ও ইউনিয়ন
পর্যাযে়র নেতারা অভিযোগ করে বলেন, এ আসনে আওয়ামী লীগের নেতারা ধানের শীষের পক্ষে
মাঠে নামছেন। এখন তারা বিএনপির সাথে মিশে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমুল্যায়ন করে
প্রার্থীকে বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিযে় ভোট কমানোর চেষ্টায় লিপ্ত। বিভিন্ন এলাকায়
ছোটখাট বিষয় নিযে় স্বৈরাচারের দোসরদের ইন্ধনে দলের মধ্যে সংঘর্ষের মতো ঘটনা
ঘটেছে। সম্প্রতি অন্ততঃ দুই উপজেলায় এমন তিনটি ঘটনা ঘটেছে এ আসনে। ভোটারদের
অভিমত স্বৈরাচার মুক্ত হাওর চাই । এ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্ধসঢ়;দ্বী জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের
প্রার্থী দাডি়পাল্লা প্রতীক নিযে় মাঠে নামছেন এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ রোকন রেজা।
তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক ও জামায়াতের
ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আইন বিভাগীয় সম্পাদক । বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি
জামায়াতের দু দলই এ আসন পেতে মরিয়া। অধিকাংশ এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা
বিএনপির দিকে ঝুঁকে পডে়ছে। বিগত সমযে় এ আসনে বিএনপির কিছু নির্ধারিত
ভোট রযে়ছে। এছাড়াও এডভোকেট ফজলুর রহমানের ব্যাক্তিগত ইমেজের ভোট ব্যাংক রযে়ছে।
সব মিলিযে় ধানের শীষের পাল্লা ভারী। তবে এ আসনে বিএনপির মধ্যে কিছুটা দলীয় কোন্দল
রযে়ছে। নির্বাচনের পূর্বে কোন্দল না মিটলে ভোটের সংখ্যা কমতে পারে। দলীয় কোন্দলের ভোট
বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রযে়ছে। আওয়ামী লীগের একটি অংশ
এডভোকেট ফজলুর রহমানকে ভোটের প্রতিশ্ধসঢ়;রুতি দিচ্ছে আবার সতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ শাহীন
রেজা চৌধুরীর পক্ষে গোপনে কাজ করছেন। এ ছাড়াও ডাঃ শাহীন রেজা চৌধুরী এলাকায়
চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিনামূল্যে সেবা দিচ্ছেন দীর্ঘদিন যাবত। গরিব শ্রেণীর ভোটের
একটি অংশ তিনি পাবেন বলে আশা করছেন। ডাঃ শাহীন রেজা চৌধুরীর মিঠামইনে বিশেষ
একজন ব্যক্তি সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের পরিবারের সাথে একটি সম্পর্ক রযে়ছে।
সেটাও একটি ভোটের ব্যাপারে ফ্যাক্টর। এ এলাকায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে
ভোটারদের অবস্থা একটি দলের পক্ষে সরাসরি থাকলেও যতই দিন ঘটিযে় আসছে ততই জামাতে
ইসলামের ভোট কিছুটা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। কারণ আওয়ামী লীগের এক শ্রেনীর নেতারা
বিএনপির পক্ষে মাঠে নামায় বিএনপির কিছু ভোট জামাতের দিক ঝুঁকে পডে়ছে।
জামাতের প্রার্থী তার নিজ এলাকা ইটনা উপজেলায় কিছু ভোট রযে়ছে। মিঠামইন ও
অষ্টগ্ধসঢ়;ৰাম উপজেলায় জামাতের কোন সারা না থাকলেও ইদানিং কিছু কিছু আওয়ামী লীগ
নেতা বিএনপির ভিতরে ঢুকার কারনে সাধারণ ভোটাররা জামাতের পক্ষ নিযে় মিছিলে
অংশগ্রহণ করছে । এ আসনে বিএনপি জামাতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইযে়র সম্ভাবনা নেই। তবে
অতীতে জামাতের ভোট এ আসনে একেবারে কম ছিল। কিছু সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতা
বিএনপিতে মিশার একটা কারণ এছাড়াও অন্যদিকে বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারনে ক্রমশ
বিএনপির ভোট কমে যাচ্ছে। সবমিলিযে় বিএনপির প্রার্থীর জযে়র সম্ভাবনা দেখছে
ভোটাররা । তবে প্রথম দিকে বিএনপির প্রার্থী যে ভোটের আশা করেছিলেন সেটা ক্রমশ হ্রাস
পাচ্ছে। অন্যদিকে অপর সতন্ত্র প্রার্থী রেহা কবির সিগমা তার নিজ বাডি় জন্মস্থান
অষ্টগ্রামে কিছু ভোট রযে়ছে। অষ্টগ্রামে বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারনে ভোটের একটি
অংশ সতন্ত্র প্রার্থী রেহা কবির সিগমার বাক্সে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রযে়ছে। অন্য দুই
উপজেলায় রেহা কবির সিগমার ফুটবল প্রতীকের কোন সাড়া নেই। এরপরেও তিনি ভোটারদের
নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত সতন্ত্র দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইযে়র
সম্ভাবনা রযে়ছে। বাকি প্রার্থীরা তাদের নিজ এলাকায় ফলাফল খারাপ করবে। তাদের কোনো
নির্বাচনী তৎপরতা নেই। প্রতীক বরাদ্দের পরও তাদের এখন পর্যন্ত মাঠে দেখা যায়নি। কোন
গনসংযোগ করতে দেখা যায়নি শুধু লিফলেট বিতরণের মধ্য সিমাবদ্ধ । প্রতীক বরাদ্দের পর
বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণায় থেমে নেই। নেতাকর্মীরা প্রতিটি ইউনিয়নে
পথসভা ও উঠান বৈঠক নিয়মিত করছেন। অন্যদিকে জামাতের প্রার্থী এডভোকেট রোকন
রেজা প্রথম দিকে প্রচার প্রচারণা ধীর গতিতে চললে ও বর্তমানে সরগরম। হাওরে জামাতের ইসলাম
বাংলাদেশের মহিলা কর্মীরা সক্রিয় রযে়ছেন। তারা বিভিন্ন কৌশলে প্রচার প্রচারণা
চালাচ্ছেন।
বার্তা প্রেরক:
বিজয় কর রতন,
মিটামইন কিশোরগঞ্জ।