টেকনাফে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই জরুরি, উদ্বেগে স্থানীয়রা।
টেকনাফ প্রতিনিধি: সোলতান আহমদ।
সীমান্ত শহর টেকনাফে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের একটি অংশ ভুয়া এনআইডি তৈরি করে শহর ও বন্দরের শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, যার ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ স্থলবন্দর, মাছঘাট, নির্মাণশ্রম এবং পরিবহন খাতে বহিরাগত শ্রমিকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এদের অনেকেই ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে।
টেকনাফ পৌর এলাকার বাসিন্দা আবদুল হাকিম বলেন,
“আগে যেসব কাজে আমরা সহজেই কাজ পেতাম, এখন সেখানে বাইরের লোকজন ভরে গেছে। তারা কম মজুরিতে কাজ করে, ফলে স্থানীয়রা পিছিয়ে পড়ছে।”
এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা দ্রুত ভুয়া এনআইডি যাচাই ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এনআইডি যাচাই জোরদার না হলে শ্রমবাজারের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“ভুয়া এনআইডি সংক্রান্ত অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যাচাই কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় এনআইডি ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করা এবং ডিজিটাল যাচাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে শ্রমবাজারে কাজের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে ভুয়া এনআইডি ব্যবহার রোধ হবে এবং টেকনাফের শ্রমবাজারে ন্যায্যতা ফিরে আসবে।