দেলোয়ার হোসেন মনির লাকসাম কুমিল্লা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বলেছেন, যারা ফ্যাসিবাদের মতো আচরণ করে তাদের দিয়ে ফ্যাসিবাদ দূর করা যায় না। ৫ আগস্টের পর থেকে যারা জুলাইয়ের চেতনা ও সংস্কারকে মানে না, তাদের দিয়ে কখনোই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ফ্যাসিবাদবিরোধী দলকে বেছে নিতে হবে, পুরোনো ও নতুন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুবকরা ঐক্যবদ্ধ।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, মনে রাখবেন যে মায়ের দামাল সন্তানরা চব্বিশে জগদ্দল পাথর হিমালয়ের সমান ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে, সেই সন্তানরা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা এখনো জেগে আছে। আগামীতে জনগণের ভোট নিয়ে কেউ যদি অন্য কোনো চিন্তা করেন এই যুবকরা সিংহ হয়ে গর্জন করবে। সিংহের থাবা সামাল দিতে পারবেন না। সুতরাং নিজের ছাড়া অন্য কারও ভোটের দিকে হাত বাড়াবেন না।
তিনি বলেন, এই স্লোগান অচল— ‘আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব’— না সেদিন এখন আর নেই। এখন আমারটা আমি দেব, তোমারটা তুমি দাও। আমার যারে পছন্দ আমি দেব, তোমার যারে পছন্দ তারে দাও। এর নাম হচ্ছে ডেমোক্রেসি। এর নাম হচ্ছে এসেন্টস অব ডেমোক্রেসি— গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের কোনো মামা-খালুর দেশ নেই, কোনো বেগম পাড়া নেই। আমাদের আছে একটাই পরিচয়, গর্বের বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ঘরে ঘরে এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত। এই দ্বিচারিতা জনগণ আর মেনে নেবে না। আপনারা মা-বোনদের গায়ে চাবুক মারতে পারেন, কিন্তু মানুষের মনের ওপর কোনো চাবুক চলে না।
জামায়াতের আমির বলেন, এই দেশটা সবার, শুধু আমার একার নয়। সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন জায়গায় যারা আছেন, আমরা বিশ্বাস করি দেশ আমাদের সবার। সবার দায় আছে। সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই আমরা একটি সভ্য দেশ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। এই দেশকে এখনো সভ্য বলা যাবে না। যে দেশের পথে ঘাটে সর্বত্র চাঁদাবাজি হয় এটা কখনও সভ্য দেশ হতে পারে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের অঙ্গীকার আমরা চাঁদাবাজদেরকে সাহায্য করব। আপনারা হয়তো বলবেন— আশ্চর্য আপনারা কি চাঁদাবাজদের আরও চাঁদা দিয়ে সহযোগিতা করবেন! না, আমরা তাদের আহ্বান করব তোমরাও আমাদের সন্তান, চাঁদাবাজি ছেড়ে দাও। তোমাদের যদি খাদ্যের অভাব হয় আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন আমরা তা ভাগাভাগি করে খাব। তবুও হারামের দিকে হাত বাড়াইও না। চাঁদা নিয়ে মানুষকে কষ্ট দিও না। রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে শিল্পপতি সবার ঘুম হারাম এদের কারণে। মানুষের অভিশাপের পাত্র হয়ে গেছ। তওবা করে এখান থেকে বের হয়ে আসো, তোমাদের বুকে টেনে নেব। এরপর তোমাদের আমরা শিক্ষিত-প্রশিক্ষিত করে হাতে কাজ তুলে দেব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে যুবকদের আমরা অসম্মান করতে চাই না। আমাদের যুবকরা যারা লড়াই করে জীবন দিতে জানে অধিকারের জন্য, তারা বেকার ভাতার জন্য লড়াই করেনি। তারা লড়াই করেছে তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার জন্য। আমরা তোমাদের কথা দিচ্ছি তোমাদের হাতকে আমরা এই দেশ গড়ার কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। সেই দিন তোমাদের হাতে মর্যাদার কাজ আমরা তুলে দেব। তখন সবাই মাথা উঁচু করে বুক ফুলিয়ে বলবা— আমিই বাংলাদেশ। আমাকে এই বাংলাদেশ অনেক কিছুই দিয়েছে এখন আমার প্রিয় দেশকে আমি দিতে চাই। আমি বেকার ভাতা খেতে চাই না।
শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশটা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। আমরা মিলেমিশে এই দেশটাকে ফুলের বাগানের মতো গড়ব ইনশাআল্লাহ। সব ধর্মের মানুষ তার সব প্রাপ্য অধিকার পাবে, অধিকারের জন্য তার লড়াই করার দরকার হবে না। আমরা সমাজে সুবিচার কায়েম করব। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করবে। সরকার দেখবে না তিনি কোন দলের কিংবা কোন ধর্মের। দেখবে তিনি যোগ্য কি না আর তার মাঝে দেশপ্রেম আছে কি না। এনাফ। এনাফ ইজ এনাফ। আর কিছু লাগবে না। তিনি কাজ পাবেন, সম্মানের সঙ্গে জীবন-যাপন করবেন।
নির্বাচনী জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, এখন সারা বাংলাদেশের সর্বস্তরের নাগরিক ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার প্রতিনিধিদের, শাপলা কলির প্রতিনিধিদের, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ডা. শফিকুর রহমান ভাইকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর জন্য মুখিয়ে আছে।
এনসিপি মূখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার কর্মীদের থামান। আপনার আসন্ন পরিনতির জন্য এরাই যথেষ্ট।
তিনি প্রশানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা কোন দলের সম্পদ নন। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির নন; আপনারা এদেশের ১৮ কোটি মানুষের। দেশের মানুষের জন্য আপনারা কাজ করুন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
কুমিল্লা-৯ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. ছৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, কুমিল্লা-১০ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস সাঈদ বিন হাবিব, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, হাজীগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আবুল হোসাইন, সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি অধ্যাপক রেজাউল করিম, কুমিল্লা-১০ আসনে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচন পরিচালক ডঃ দেলোয়ার হোসাইন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আব্দুল হক আমিনী, ঢাকা দক্ষিণ জেলা জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান সোহাগ, সাবেক ছাত্রনেতা নোমান হোসেন নয়ন, ঢাকা মহানগর জামায়াত নেতা মুহাম্মদ সিরাজুল হক, খেলাফত মজলিশ লাকসাম উপজেলা সভাপতি মুফতি মাহবুবুর রহমান, এনসিপি কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক ব্যারিস্টার মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোহরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ, কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন, কুমিল্লা-৯ আসনে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচন পরিচালক ও লাকসাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, সদস্য সচিব ও উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ জহিরুল ইসলাম, মনোহরগঞ্জ উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা নূরুন্নবী, কুমিল্লা জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
লাকসাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জোবায়ের ফয়সাল ও পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ শহিদ উল্যাহর পরিচালনায় নির্বাচনী জনসমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ লক্ষাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।