Blog

  • উন্নয়নের স্বার্থে আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে ধানের শীষে ভোট দিন — আনিসুর রহমান আনিস  ‎

    উন্নয়নের স্বার্থে আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে ধানের শীষে ভোট দিন — আনিসুর রহমান আনিস ‎

    ‎মোঃ সজিব সরদার

    ‎বিশেষ প্রতিনিধিঃ সাবেক ছাত্রদল নেতা, শহীদ জিয়া গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস বলেছেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে দেশের জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ সময়ে মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার ছিল না।

    তিনি বলেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে পটুয়াখালী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    ‎শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী সদর থানার নন্দকানাই এলাকায় এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ‎যোগেন শীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জিয়া গবেষণা পরিষদের নেতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক অধ্যাপক মো. জহিরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পার্সোনাল প্রেস সেক্রেটারি ও পবিপ্রবির সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মাহফুজুর রহমান সবুজ, জিয়া গবেষণা পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সহ-সভাপতি মজিবর রহমান সরদার ও জিয়াউল হক জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    ‎এছাড়া বিকাল ৪টায় কালিকাপুর এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন আনিসুর রহমান আনিস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ জিয়া গবেষণা পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মর্জিনা বেগম, ফাতিমা আক্তার মুক্তা, মোছা. শিউলি পারভীন, আসমা বেগম, লিলি বেগম, মো. মঞ্জুরুল আহসান মানিক, মাস্টার জসীম উদ্দিন, মাওলানা মো. জিহাদুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির মঞ্জুসহ জেলা বিএনপি, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

  • ফ্যামিলী কার্ডের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না: অধ্যাপক নুর আহমদ আনোয়ারী উখিয়া-টেকনাফের মানুষ পরিবর্তন চায়

    ফ্যামিলী কার্ডের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না: অধ্যাপক নুর আহমদ আনোয়ারী উখিয়া-টেকনাফের মানুষ পরিবর্তন চায়

    টেকনাফ প্রতিনিধি: সোলতান আহমদ।
    ফ্যামিলী কার্ডের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যাপক নুর আহমদ আনোয়ারী। তিনি বলেন, উখিয়া-টেকনাফের মানুষ এখন আর কথার ফাঁদে পড়বে না, তারা প্রকৃত পরিবর্তন চায়।
    শুক্রবার ৩০শে জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি উখিয়া উপজেলার একটি নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জনগণকে নানা আশ্বাস দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। ফ্যামিলী কার্ডসহ বিভিন্ন নামের প্রকল্প দেখিয়ে ভোট আদায়ের রাজনীতি আর চলবে না।”
    তিনি আরও বলেন, “উখিয়া-টেকনাফের মানুষ আজ সচেতন। তারা ন্যায়বিচার, সুশাসন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সেই পরিবর্তনের প্রতীক।”
    নির্বাচনী বক্তব্যে তিনি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নৈতিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন। “আমি নির্বাচিত হলে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন থাকব,” যোগ করেন তিনি।
    সভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সমর্থক ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে এলাকায় গণসংযোগ করেন প্রার্থী অধ্যাপক নুর আহমদ আনোয়ারী।
  • শিবগঞ্জে রাজনৈতিক পরিবর্তন: বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিলেন ৬০ নেতাকর্মী

    শিবগঞ্জে রাজনৈতিক পরিবর্তন: বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিলেন ৬০ নেতাকর্মী

    মোহাঃ রকিব উদ্দীন
    স্টাফ রিপোর্টার
    শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নে আবারও ঘটলো উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিবর্তন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে একযোগে ৬০ জন নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।
    শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি শিবগঞ্জ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. কেরামত আলীর হাত ধরে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
    নবাগত নেতাকর্মীরা জানান, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নতুন নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের মতে, দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই তারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।
    স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে একসাথে ৬০ জন নেতাকর্মীর যোগদান শিবগঞ্জের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এর ফলে এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেনি তারা।
    এ ঘটনায় দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
  • কটিয়াদীতে ভাতিজার টেঁটার আঘাতে চাচা নিহত ও তার ছেলে আহত।

    কটিয়াদীতে ভাতিজার টেঁটার আঘাতে চাচা নিহত ও তার ছেলে আহত।

    রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি :-
    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজার টেটাঁর আঘাতে চাচা নিহত হয়েছেন এবং  গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের ছেলে। তারা উভয়ই উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত ব্যক্তি মাহমুদুর রহমান কামাল (৫৫) আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও ইউপি সদস্য ছিলেন। টেটাঁবিদ্ধ  তারই ছেলে কামাল(২০)।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত মাহমুদুর রহমান কামাল মেম্বারের সঙ্গে তার বড় ভাই ভিটাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের জমি সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত   বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার ২৯ শে জানুয়ারি দুপুরে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বেশ কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জালাল উদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন সিদ্দিক তার চাচা মাহমুদুর রহমান কামালের মাথার এক পাশে এবং তার ছেলে কাকনের হাতে টেটাঁ দিয়ে আঘাত করে তাতে দুজনই গুরুতর আহত হন।ঘটনার পরপর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ শাহরিয়ার অনিক জানান টেটা বিদ্ধ দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ও টেটা অপসারণ জন্য ঢাকা রেফার করি।  পরিবারের লোকজন তাদেরকে ঢাকার নিউরোসাইন্স হাসপাতালে নেওয়ার পথে, মাহমুদুর রহমান কামাল মেম্বার মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে তার ছেলে চিকিৎসাধীন আছে।
     এ ব্যাপারে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান,নিহত কামাল মেম্বারের মেয়ে ইসরাত জাহান করবী বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করে যার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন ও তার স্ত্রী শামসুন্নাহার কে পুলিশ আটক করেছে।   বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় অন্যান্যদের গ্রেফতারে পুলিশি  অভিযান চলছে।
  • স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ রানা/ মালয়েশিয়ায় অভিবাসন বিভাগের অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ আটক ২১৮

    স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ রানা/ মালয়েশিয়ায় অভিবাসন বিভাগের অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ আটক ২১৮

    মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান ইমাসে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিশেষ অভিযানে ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এই অভিযানে ভবনের ছাদে অন্ধকার স্থানে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে অত্যাধুনিক থার্মাল ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি। তিনি জানান, ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১৫ জন বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যারা গ্রেফতার এড়াতে দোকান ও আবাসিক ভবনের ছাদে লুকিয়ে ছিলেন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে মোট ১,০৮৭ জনের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জনকে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অপরাধে আটক করা হয়েছে।
    আটককৃতদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ৫২ জন নারী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মিয়ানমারের ৭৮ বাংলাদেশের ৫৬, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪, নাইজেরিয়ার ১২, নেপালের ১০, ভারতের ৫, শ্রীলঙ্কার ৪ এবং অন্যান্য দেশের মোট ৯ জন নাগরিক রয়েছেন।
    আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অতিরিক্ত সময় অবস্থান (ওভারস্টে) এবং অননুমোদিত কার্ড ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, পরবর্তী তদন্তের জন্য তাদের সবাইকে সেমেনিয়াহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
    তিনি আরও বলেন, গত একদিনে দেশজুড়ে মোট ১ হাজার ৬৯টি অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৭৯৩ জনের নথিপত্র যাচাই করে ৩ হাজার ৬৯১ জন অবৈধ অভিবাসী এবং ১১০ জন নিয়োগকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
    ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়দাতা বা নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে অবৈধভাবে অবস্থানরতদের জন্য সরকারের ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’ স্বেচ্ছায় দেশে চলে যাওয়ার সুযোগ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হবে। এরপর থেকে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

     

  • এক যুগে লেখক তৌফিক সুলতান স্যারের‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। — শিক্ষার্থীদের পড়ার সংকট সমাধানে সময়োপযোগী এক উদ্যোগ।

    এক যুগে লেখক তৌফিক সুলতান স্যারের‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। — শিক্ষার্থীদের পড়ার সংকট সমাধানে সময়োপযোগী এক উদ্যোগ।

    আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো—অনেক পড়াশোনা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া, পড়া বুঝলেও তা দীর্ঘদিন মনে না থাকা এবং পরীক্ষার হলে গিয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা। এই বাস্তব সমস্যাগুলো শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপট থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থ ‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ রচিত হয়েছে। আজ এক যুগে এই গুরুত্বপূর্ণ বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এইচ. কে. বিপুল স্মৃতি হাই স্কুল, দৌলতপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, কোচেরচর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসাসহ আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইব্রেরিতে সংরক্ষণের জন্য প্রধান শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন জনাব মন্জিল স্যার এবং বইয়ের রচয়িতা তৌফিক সুলতান স্যার। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি শিক্ষকদের মাঝেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
    ‘জ্ঞানের জগৎ’ বইটির লেখক তৌফিক সুলতান স্যার একজন প্রভাষক, লেখক ও গবেষণামুখী শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। তিনি নিজেকে কেবল শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা, মানসিক চাপ, পড়ার ভয় ও ব্যর্থতার হতাশার ভেতরে দাঁড়িয়ে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি বারবার লক্ষ্য করেছেন—অনেক শিক্ষার্থী ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা করেও পরীক্ষার হলে গিয়ে সব ভুলে যায়। আবার অনেকে বিষয় বুঝলেও মুখস্থ না থাকার কারণে ভালো ফল করতে পারে না। এই অভিজ্ঞতা তাকে ভাবিয়েছে এবং প্রশ্ন তুলেছে—সমস্যাটি কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের মেধায়, নাকি আমাদের পড়ার পদ্ধতিতেই মূল ত্রুটি লুকিয়ে আছে?
    এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তৌফিক সুলতান স্যার শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা-গবেষণা ও বাস্তব শ্রেণিকক্ষের অভিজ্ঞতা একত্রে বিশ্লেষণ করেন। তিনি উপলব্ধি করেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় পড়া বোঝা, মনে রাখা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে গভীর বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই শুধু পরীক্ষার জন্য পড়ে, ফলে পড়া হয় সাময়িক এবং পরীক্ষার পরই তা ভুলে যায়। আবার কেউ কেউ বিষয় গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করলেও সঠিক স্মৃতি সংরক্ষণ কৌশল না জানার কারণে পরীক্ষায় বা জীবনের বাস্তব ক্ষেত্রে সেই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে না। এই দ্বন্দ্ব থেকেই ‘জ্ঞানের জগৎ’ বইটির মূল দর্শন গড়ে ওঠে—পড়া বুঝে মুখস্থ করতে হবে। অর্থাৎ বোঝা ও মুখস্থ—এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই শেখা হয় স্থায়ী, কার্যকর ও অর্থবহ।
    বইটিতে লেখক খুব সহজ ভাষায় পড়ার সঠিক কৌশল তুলে ধরেছেন। কীভাবে পড়লে পড়া দীর্ঘদিন মনে থাকে, কীভাবে অল্প পড়ে ভালো ফল করা যায়, কীভাবে পরীক্ষার ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়—এসব বিষয় বাস্তব উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিশেষভাবে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে আছে, যারা পড়েও ভুলে যায় বা পরীক্ষার হলে গিয়ে মাথা ফাঁকা হয়ে যায়—এই বইটি তাদের জন্য একটি কার্যকর গাইড হিসেবে কাজ করবে। বইটিতে দেখানো হয়েছে, পড়াশোনা কখনোই কেবল মুখস্থনির্ভর হওয়া উচিত নয়; আবার শুধু বোঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও চলবে না। পড়াকে যদি আনন্দময় করা যায় এবং জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়, তবে শেখা হয়ে ওঠে স্বতঃস্ফূর্ত ও দীর্ঘস্থায়ী।
    ‘জ্ঞানের জগৎ’ বইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি শুধু পরীক্ষার ফলাফলকেন্দ্রিক নয়। বইটিতে স্মৃতির বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য, নিয়মিত চর্চার গুরুত্ব, সময় ব্যবস্থাপনা এবং মনোযোগ বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে ইসলামিক জ্ঞানদর্শনের আলোকে ইলমের গুরুত্ব ও নৈতিকতা তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের মতে, আল্লাহ প্রদত্ত ইলম মানুষের জীবনে আলো ছড়ানোর সবচেয়ে বড় শক্তি। এই জ্ঞান যদি সঠিক নিয়তে অর্জন করা যায় এবং মানবকল্যাণে ব্যবহার করা যায়, তবে তা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে।
    বইটিতে আরও উল্লেখযোগ্যভাবে আলোচিত হয়েছে—স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক খাদ্যাভ্যাস, সুস্থ মস্তিষ্ক গঠনের উপায় এবং দৈনন্দিন জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের কৌশল। শুধু তাই নয়, যারা লেখালেখি জানে কিন্তু সেখান থেকে আয় করতে পারছে না, তাদের জন্যও বইটিতে বাস্তব দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে অসংখ্য ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের ভিড়ে কীভাবে সঠিক তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে গবেষণামুখী মানসিকতা গড়ে তুলতে হয়—এসব বিষয়ও বইটিতে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ‘জ্ঞানের জগৎ’ কেবল শিক্ষার্থীদের জন্য নয়; বরং শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণ গবেষকদের জন্যও একটি উপযোগী গ্রন্থ।
    বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা ‘জ্ঞানের জগৎ’-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বর্তমান মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় এই বইটি একটি প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সংযোজন। তাদের মতে, এই বইটি শিক্ষার্থীদের পড়ার অভ্যাস বদলে দিতে পারে এবং পড়াশোনার প্রতি ভয় দূর করে আগ্রহ তৈরি করতে সক্ষম। বইটি শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফল করার পথই দেখায় না, বরং চিন্তাশীল, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার দিকনির্দেশনাও দেয়।
    সবশেষে বলা যায়, পদ্ধতিই ফলাফল বদলায়—এই মূল দর্শনকে সামনে রেখেই ‘জ্ঞানের জগৎ’ রচিত। একটি বই যে একজন শিক্ষার্থীর পড়ার অভ্যাস, চিন্তার ধরণ এমনকি জীবনের লক্ষ্যও বদলে দিতে পারে—‘জ্ঞানের জগৎ’ তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। আজকের এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শুধু একটি বই প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে শেখার পথ দেখানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। যারা পড়াশোনাকে সহজ, উপভোগ্য ও ফলপ্রসূ করতে চায় এবং যারা জ্ঞানকে জীবনের ও আয়ের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে চায়—তাদের জন্য ‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও মূল্যবান গ্রন্থ।
  • প্রকাশ্যে তীব্র অপমান, স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব ভাঙলেন সাইফ কন্যা

    প্রকাশ্যে তীব্র অপমান, স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব ভাঙলেন সাইফ কন্যা

    দীর্ঘদিনের স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব, কিন্তু সেই সম্পর্ক ভাঙতে সময় লাগল না এক মুহূর্ত। বলিপাড়ার ইনফ্লুয়েন্সার ওরহান আত্রামানি ওরফে ওরির সাথে সব সম্পর্ক শেষ করে দিলেন সাইফ আলি খানের কন্যা সারা আলি খান। প্রকাশ্যে সারার ক্যারিয়ার ও পরিবার নিয়ে ওরির অপদস্থকর মন্তব্যের জেরে এই বিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। 

    ঘটনার শুরু ওরির একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি সারা আলি খান, তার মা অমৃতা সিং এবং ভাই ইব্রাহিম আলি খানের চর্চিত প্রেমিকা পলক তিওয়ারিকে উদ্দেশ্য করে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। ওরি জানান, এই তিনটি নাম তার কাছে অত্যন্ত অপছন্দের। এমন প্রকাশ্য অপমানের পর কোনো কথা খরচ না করেই ওরিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আনফলো করে দেন সারা ও ইব্রাহিম।

    বন্ধুত্বে ফাটল ধরার পর ওরি আরও এক ধাপ এগিয়ে সারাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন; সেটাও ভীষণ ন্যাক্কারজনকভাবে! আরেক রিল ভিডিওয় ওরিকে দেখা যায় কালো নেটের গেঞ্জিতে স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে ভিতরে থাকা সাদা ব্রা এবং তার স্ট্র্যাপ। এই ইনফ্লুয়েন্সারের এমন উদ্ভট সাজপোশাক দেখে একজন প্রশ্ন ছোড়েন, ওই অন্তর্বাসে ঠিক কী ধরে রেখেছেন আপনি? আর সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই অযাচিতভাবে সারা আলি খানের নাম উল্লেখ করে বসেন ওরি।  বলেন, আমার এই অন্তর্বাসে সারার ক্যারিয়ারের হিট ছবিগুলো ধরে রেখেছি।

    ওরির এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে নেটিজেনদের মাঝেও তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এদিকে সারার এতসব অপমানের পরেও সরাসরি কোনো তর্কে জড়াননি নবাবকন্যা। তবে সিনেমা জগতে আসার আগে থেকেই সারা এবং ওরি একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বলিউডের যেকোনো বড় পার্টিতে তাদের একসাথে দেখা যেত।

  • ক্যারিবি ও পিকাবোর মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর

    ক্যারিবি ও পিকাবোর মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর

    দেশের শীর্ষ লজিস্টিকস ও ডেলিভারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্যারিবি ই-কমার্স ডেলিভারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে শীর্ষ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম পিকাবোর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

    সম্প্রতি ঢাকায় এ সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    চুক্তির আওতায় ক্যারিবি দেশব্যাপী লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পিকাবোর সব পার্সেল ডেলিভারির দায়িত্ব পালন করবে। একইসঙ্গে ক্যারিবির লজিস্টিকস সাপোর্ট সিস্টেমের সঙ্গে পিকাবো প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্ডার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

    ক্যারিবি জানিয়েছে, এই অংশীদারত্ব তাদের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে পিকাবো কর্তৃপক্ষ এটিকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি লজিস্টিকস কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে।

    লজিস্টিকস ও ই-কমার্স খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের চুক্তি দেশের ই-কমার্স ও লজিস্টিকস খাতে ক্রমবর্ধমান সমন্বয়ের প্রতিফলন।

  • আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় যেকোনো দিন

    আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় যেকোনো দিন

    চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এ মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা হবে।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এ মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে জবাব দেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এরপর পাল্টা জবাব দেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে রায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন ধার্য করেননি ট্রাইব্যুনাল। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হবে।

    ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, আবুল হাসানসহ অন্যরা ছিলেন।

    এর আগে গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি। তিন কার্যদিবসে যুক্তিতর্কে এ মামলার আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়, যা ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সময় ধারণ করা হয়েছিল। মামলার প্রমাণ হিসেবে দেখানো এসব ভিডিওতে আসামিরা কে, কোথায় ছিলেন বা তাদের কার্যকলাপ শনাক্ত করে দেন প্রসিকিউটর মিজানুল। সবশেষে ৩০ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে প্রসিকিউশন।

    এরপর আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলু, আবুল হাসানসহ স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা। তারা তাদের মক্কেলদের বেকসুর খালাস চেয়েছেন।

    এদিকে, আজ সকালে কারাগার থেকে এ মামলার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন– এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। তবে বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন এখনো পলাতক।

    গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-২। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় ৩০ জুন। ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

  • এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বানানোর নয়, রাষ্ট্র বিনির্মাণের :  রবিউল

    এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বানানোর নয়, রাষ্ট্র বিনির্মাণের : রবিউল

    ঢাকা-১০ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি বলেছেন, এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বানানোর নির্বাচন নয়, এটি রাষ্ট্র বিনির্মাণের ভোট। রাষ্ট্র আজ সংকটে রয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন জরুরি, যা বিএনপির রাজনীতির মূল অঙ্গীকার।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় পঞ্চম দিনের নির্বাচনী প্রচারের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

    রবিউল বলেন, বিএনপি সারা দেশে ভোটারদের জন্য নতুন রাজনীতির অঙ্গীকার নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় মৌলিক পরিবর্তন এনে একটি দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

    তিনি বলেন, বিএনপি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে সব মানুষের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করতে চায়। বিশেষ করে তরুণদের ভোট আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এলাকার সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে আমি এলাকাবাসীর নানা সমস্যা চিহ্নিত করেছি। সুযোগ পেলে পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা সমাধান করা হবে। বিএনপি প্রার্থী দাবি করেন, প্রায় ৩৫ বছরের নিবিড় সম্পর্কের কারণে জনগণ আমাকে বিশ্বাস করে। তারা জানে আমি তাদের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা ও সক্ষমতা রাখি।

    নিউমার্কেট এলাকা প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, সেখানে পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ কিছু সামাজিক নিরাপত্তাজনিত সমস্যা রয়েছে। তবে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন হলে এবং দায়িত্ব পেলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

    শেখ রবিউল আলম রবি আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়ে রায়ের মাধ্যমে বিএনপি ও আমাকে তাদের পাশে থাকার সুযোগ করে দেবে। জনগণের হয়ে জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা সমস্যার সমাধান করব।

    এ সময় তিনি নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা চালান।